সুপারশপে ভ্যাট রেয়াত সহজ করল এনবিআর

দেশের সুপারশপগুলো এখন থেকে সহজে রেয়াত নিতে পারবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

দেশের সুপারশপগুলো এখন থেকে সহজে রেয়াত নিতে পারবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শর্ত সাপেক্ষে মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ঘোষণা দাখিলও করতে হবে না এ খাতের ব্যবসায়ীদের। মূসক আইন ও বিধি শাখার ৯ ফেব্রুয়ারির এক ব্যাখ্যাপত্রে এ সুবিধার কথা জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) ড. মো. আবদুর রউফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সুপারশপ এখন থেকে সহজে রেয়াত নিতে পারবে। রেয়াত নেয়ার অন্যতম শর্ত হলো মূসক-৪.৩ ফরমে ঘোষণা দাখিল করা। সুপারশপের জন্য এ ঘোষণা রহিত করা হয়েছে। কারণ সুপারশপ হাজার হাজার পণ্য বিক্রি করে। প্রতিটি পণ্যের ঘোষণা দেয়া কঠিন।’ রেয়াত নেয়া কী—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে দেয়া ভ্যাট দাখিলপত্রের মাধ্যমে ফেরত নেয়াকে রেয়াত বলা হয়।’

এনবিআরের ব্যাখ্যাপত্রে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে সুপারশপের ক্ষেত্রেও ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটের হার প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত হ্রাসকৃত ভ্যাটের হার কিংবা সুনির্দিষ্ট করের পরিবর্তে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে পারবেন।

একই আইনের ধারা ৩২(৫) এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২১ অনুযায়ী, নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তিকে পণ্য উৎপাদন বা সরবরাহের আগে বিভাগীয় কর্মকর্তার কাছে উপকরণ-উৎপাদ সহগ ঘোষণা (মূসক-৪.৩) দাখিল করতে হয়। আইনের ধারা ৪৬(১)(ড) অনুযায়ী, উপকরণ-উৎপাদ সহগ ঘোষিত নেই এমন উপকরণ বা পণ্যের বিপরীতে পরিশোধিত উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাবে না।

অন্যদিকে এনবিআরের ১৪ অক্টোবর ২০২০ সালের একটি ব্যাখ্যাপত্রে পরিষেবা সরবরাহকারীদের জন্য উপকরণ-উৎপাদ সহগ ঘোষণা (মূসক-৪.৩) দাখিলের প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু সুপারশপ বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি বা স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে (উৎপাদন ছাড়া) সরবরাহ করে থাকে, তাই সুপারশপ ৭.৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করলে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সুপারশপগুলোর বিক্রীত পণ্যের সংখ্যা অত্যধিক হওয়ায় উপকরণ-উৎপাদ সহগ (মূসক-৪.৩) ঘোষণা দাখিল করা কষ্টসাধ্য। এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, সুপারশপ যদি ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট পরিশোধ করে, তবে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর অন্যান্য বিধানাবলি পরিপালন সাপেক্ষে তাদের উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের জন্য মূসক-৪.৩ ঘোষণা দাখিল করতে হবে না।

এনবিআরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, সুপারশপ বলতে—শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হোক বা না হোক, আয়তন নির্বিশেষে এমন একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ দোকান বোঝায়, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত, জীবাণুমুক্ত ও সংরক্ষণবিহীন মাছ-মাংস, চাল-ডাল, শাক-সবজি, ফল-মূলসহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য গৃহস্থালি ও মনিহারি পণ্য বিক্রি করা হয়।

আরও